THE B NEWS 24

রাত ১১:২৬ - মঙ্গলবার - ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
রাত ১১:২৬ - মঙ্গলবার - ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রাম সর্বশেষ

বদলির আদেশের সাড়ে ৫ মাসেও কর্ণফুলী থানায় বহাল এএসআই রুহুল আমিন, নানা অভিযোগ

বদলির আদেশ জারির প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায় কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়াকে নতুন কর্মস্থলে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বদলির আদেশ ও পরবর্তী লিখিত নির্দেশনার পরও তিনি আগের কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এর মধ্যে দায়িত্ব পালনে অসদাচরণ, হুমকি, মাদকসংক্রান্ত অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে অভ্যন্তরীণভাবে বদলি করা হয়। তাঁদের মধ্যে এএসআই রুহুল আমিন ভূঁইয়াও ছিলেন। পরে গত ৫ জুলাই জারি করা আরেক নির্দেশনায় বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের ছাড়পত্র দিতে বিলম্বের বিষয়টি উল্লেখ করে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অন্য কর্মকর্তারা নতুন কর্মস্থলে যোগ দিলেও রুহুল আমিনের বদলি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গত ১৭ অক্টোবর কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এগুলো নিয়ে আপনারাও মাথা ঘামান?” পরে থানার জনবল সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “অন্য থানা থেকে একজন আসলে এই থানা থেকে একজন যাবে, নইলে তো মাইর খেয়ে চিত হয়ে যাব।” তবে জনবল সংকটের কারণে বদলি কার্যকরে বিলম্ব হলে সে বিষয়ে লিখিত অনুমোদন রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে গত ১৮ অক্টোবর ১৪৫ ধারাসংক্রান্ত একটি নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে পিঠের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এএসআই রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। তবে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। নোটিশটিতে ভুল তথ্য থাকার অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, শিকলবাহা ক্রসিং এলাকায় রাতে চেকপোস্ট পরিচালনার সময় ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া এবং মাদক আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। 

এ বিষয়ে সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, এএসআই রুহুল আমিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বদলি কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি চলে যাবেন।” এ সময় তিনি কর্ণফুলী থানায় তিনজন ওসি পরিবর্তন এবং জনবল সংকটের কথাও উল্লেখ করেন।

এর আগে গত জুলাইয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মৌখিক ও লিখিতভাবে ছাড়পত্র নেওয়ার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরবর্তী সময়ে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বদলির আদেশের পরও একজন কর্মকর্তা কেন আগের কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন, এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং বদলি বাস্তবায়নে বিলম্বের প্রশাসনিক কারণ স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রমাণিত না হলে তা পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে পুলিশের জবাবদিহি ও জনআস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *