THE B NEWS 24

রাত ১১:১৯ - মঙ্গলবার - ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
রাত ১১:১৯ - মঙ্গলবার - ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রাম সর্বশেষ

শাহমিরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ

ফাঁড়ির সামনেই মাদকের স্পট চালুর অভিযোগ, এক ব্যক্তির সঙ্গে ৭০ হাজার টাকায় রফাদফার দাবি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর থানার শাহমিরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শফিউল্লাহর বিরুদ্ধে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলা মদ ও ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। এমনকি পুলিশ ফাঁড়ির সামনেও মাদকের স্পট পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রির কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারবারিদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নাম, মাদক বিক্রির কথিত স্থান এবং মাসিক চাঁদার অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে।

চার মাদক কারবারির কাছ থেকে মাসিক অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, টিমি এরোয়াট নামের এক ব্যক্তি সুন্দরীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বাংলা মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাঁর কাছ থেকে মাসিক ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া কুড়ি পুকুরপাড় নতুনপাড়া এলাকার মো. ওসমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

পাইপের গোড়া বাজার এলাকায় ডান্ডি নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলা মদ ও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে মাসিক ১১ হাজার টাকা এবং প্রভাতীবাজার পাহাড় এলাকায় মো. হামিদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাসিক ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লিখিত চার ব্যক্তির কাছ থেকে কথিত মাসিক অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় মোট ৪৪ হাজার টাকা।

সালাউদ্দিনের সঙ্গে রাতের বৈঠকের অভিযোগ

অভিযোগে মো. সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বৈঠকের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) গাছ কাটার মামলা এবং পুলিশের ওপর হামলা-সংক্রান্ত মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে টানেল ভিউ রেস্টুরেন্টে সালাউদ্দিন ও মো. জামাল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক হয়। জামালকে অভিযোগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বৈঠকে মাসিক ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদক বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষ করে পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি মাদক বিক্রির অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মাদকদ্রব্যের অবাধ বিক্রি ও সেবন চলতে থাকলে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণতা এবং এলাকার স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

সরকার মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে। এ অবস্থায় কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

অভিযোগ অস্বীকার পুলিশের

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহমিরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ শফিউল্লাহ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওসির নির্দেশে টিমি এরোয়াটকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে টিমি এরোয়াট জানিয়েছেন, তিনি মদ পান করেন এবং তাঁর লাইসেন্স রয়েছে। তবে তিনি মদ বিক্রি করেন না বলে দাবি করেছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *