মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তিন মাসের বেশি সময় আটকে থাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ ‘এমটি নর্ডিক পোলাক্স’ অবশেষে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাসতানুরা বন্দর থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে জাহাজটি গত ৩ মার্চ হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়ে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ২২ জুন জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে প্রয়োজনীয় বাঙ্কার (জাহাজের জ্বালানি) ও পানি সংগ্রহের পর এটি বাংলাদেশের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করে।
বর্তমানে জাহাজটি প্রায় ১০ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল গতিতে শ্রীলঙ্কার গলে বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ৩০ জুন সকাল সাড়ে ৬টায় গলে বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ জুলাই সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে জাহাজটি।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) বিপিসির আমদানি করা শতভাগ ক্রুড অয়েল পরিবহনের দায়িত্ব পালন করে থাকে। এসব অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসিতে পরিশোধনের মাধ্যমে দেশের বাজারে সরবরাহ করা হয়।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজটি ২২ জুন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে ফুজাইরা থেকে বাংলাদেশের পথে রয়েছে। আগামী ৬ জুলাই সকাল ৮টার দিকে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে, ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশে ক্রুড অয়েলের মজুত সংকটে পড়ে। এর ফলে গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল। পরে ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজে নতুন চালান পৌঁছানোর পর ৮ মে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে ১ লাখ ২ হাজার ২৮০ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল নিয়ে আসা ‘এমটি নিনেমিয়া’ কুতুবদিয়া অ্যাংকরে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে লাইটারিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জাহাজটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল নিয়ে গত ১৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়।
এর আগে একই জাহাজ বিকল্প রুট ব্যবহার করে ৬ মে প্রায় এক লাখ টন ক্রুড অয়েল বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল। এছাড়া ফুজাইরা বন্দর থেকে ৯৯ হাজার ৭৬৯ টন মারবান ক্রুড অয়েল নিয়ে গত ২১ মে বাংলাদেশে পৌঁছায় ‘এমটি ফসিল’।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার এ সময় বিকল্প উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি আমদানি করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দামও সমন্বয় করা হয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টন ডিজেল উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন এবং এমএস অকটেনসহ বিভিন্ন উপজাতও উৎপাদিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে তেলবাহী জাহাজের বার্থিং, লাইটারিং ও খালাস কার্যক্রমে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।