THE B NEWS 24

বিকাল ৫:০৭ - শুক্রবার - ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
বিকাল ৫:০৭ - শুক্রবার - ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
জাতীয় সর্বশেষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জের ঘটনায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ভূমিকা নিয়েও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটিতে আমার নাম রয়েছে। তবে আমি এখনও এ বিষয়ে কোনো চিঠি পাইনি।”

এর আগে ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে উচ্চস্বরে গানবাজনা নিয়ে পাশের মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বিরোধ তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ঘটনার পর জেলা পুলিশ তিন সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ, পুলিশের ভূমিকা এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তবে এবার বিষয়টি আরও উচ্চপর্যায়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ভূমিকা ও ঘটনাটির সার্বিক প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন-অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, মোহাম্মদ নাজমুল হাসান পিপিএম -অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম), চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও পুলিশ সুপার সচিন চাকমা, পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

তদন্ত কমিটি ঘটনাটির আগে-পরে পুলিশের কর্মকাণ্ড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রেক্ষাপট, মাদরাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের বিরোধের কারণ, সংঘর্ষের সময় পুলিশের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম ছিল কি না-এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে পারে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠান চলার সময় উচ্চস্বরে গানবাজনায় পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছিল। শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ জানাতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। পরে পুলিশ ও মাদরাসা ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্যও এসেছে।

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করা এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়। এখন উচ্চপর্যায়ের এই তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *