ঢাকা: গত পাঁচ বছরে দেশে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রায় ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সময়ে এসব দুর্যোগে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ মানুষ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। একই সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ দুই ধরনের দুর্যোগে মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
মন্ত্রী আরও জানান, এ সময়ে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে মোট ২৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে বন্যায় মারা গেছেন ১৯০ জন এবং ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পাঁচ বছরে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে মোট ১ কোটি ৭৭ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩২ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৩২৬ জন এবং ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৭৪ হাজার ২০৬ জন।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে ৪০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৩৩৭টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১১৫টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৬৮১ দশমিক ১৫৪ কিলোমিটার দুর্যোগ-সহনীয় এইচবিবি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬ হাজার ২৭৮টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৫৮০টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণাধীন রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিক আগাম সতর্কবার্তা ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, ঝুঁকিভিত্তিক আগাম কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জিআর খাদ্য, নগদ অর্থ সহায়তা, ঘর নির্মাণ ও মেরামতের অনুদান, ঢেউটিন, শুকনা খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিক এসব উদ্যোগের ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে দেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।