THE B NEWS 24

রাত ২:০২ - বৃহস্পতিবার - ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
রাত ২:০২ - বৃহস্পতিবার - ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রাম সর্বশেষ

দেশের কোনো সরকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি’

চট্টগ্রাম: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাচ–গান, শোভাযাত্রা ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে শনিবার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। সকাল থেকে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে হাজারো তরুণ–তরুণী নিজ নিজ জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে পাহাড়িদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, রীতি–নীতি ও সংস্কৃতি দিন দিন বিলুপ্তির পথে।

বান্দরবান
জেলা শহরের রাজার মাঠে সকাল ৯টায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও ভূমি মালিকানা নিশ্চিতের দাবি জানান। সমাবেশে মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খেয়াং, খুমি, তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা প্রভৃতি ১১টি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন মং উষাথোয়াই মারমা। বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা, সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতারা।

বক্তারা স্মরণ করেন, ১৯৭২ সালে সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বহুত্ববাদী বাংলাদেশের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা গ্রহণ করলে আজকের সংকট তৈরি হতো না। জুলাই আন্দোলনের পর বহুত্ববাদ নিয়ে নতুন করে ভাবনার আহ্বান জানান তারা।

রাঙামাটি
পৌরসভা মাঠে বেলা ১১টায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেএসএস সহসভাপতি ও সাবেক এমপি উষাতন তালুকদার বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে, তাই সাংবিধানিক স্বীকৃতি জরুরি। সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, উদ্বোধন করেন শিশির চাকমা। অনুষ্ঠান শেষে শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

খাগড়াছড়ি
শাপলা চত্বর থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে খাগড়াপুরে সমাবেশে মিলিত হয়। বক্তারা নারী নির্যাতন বন্ধ, মাতৃভাষায় শিক্ষা, নারী–শিশুর নিরাপত্তা, ভূমি অধিকার রক্ষা ও ভূমি কমিশন কার্যকর করার দাবি জানান। এছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের আহ্বান জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
শাখা মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের উদ্যোগে শহীদ মিনারের সামনে মৌন প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, বম জনগোষ্ঠীকে অন্যায্যভাবে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে আটক রাখা, ভূমি বেদখল ও নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *