THE B NEWS 24

বিকাল ৫:৩৭ - শুক্রবার - ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
বিকাল ৫:৩৭ - শুক্রবার - ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রাম সর্বশেষ

কর্ণফুলীতে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে গাড়ি ছাড়ার অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর মামলা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ভেল্লাপাড়া ক্রসিং এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে ২ হাজার টাকা নেওয়া এবং পরে গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে একই গাড়ির বিরুদ্ধে ২ হাজার ৫০০ টাকার মামলা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. হাসান। তার দাবি, ২০০ টাকার একটি ভাড়া শেষে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ভেল্লাপাড়া ক্রসিং এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ তার সিএনজি অটোরিকশাটি আটক করে। পরে মামলার ভয় দেখিয়ে তাকে শিকলবাহা ক্রসিংয়ে পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসানের অভিযোগ, স্টেশনে নেওয়ার পর কনস্টেবল মো. রবিউল তার কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে একজন দালালের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

চালক হাসান বলেন, “আজ সারাদিনে আমার আয় ছিল মাত্র ২০০ টাকা। আগামীকাল কিস্তি দেওয়ার কথা। বাড়ি থেকে কিস্তির টাকা এনে ২ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে এনেছি। এখন কিস্তির টাকা কীভাবে দেব?”

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্বে ছিলেন নায়েক রবিউল ইসলাম, কনস্টেবল মো. রেজাউল, কনস্টেবল মো. মফিজুল এবং কনস্টেবল মো. রাসেল।

ঘটনার বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে কয়েকজন সংবাদকর্মী শিকলবাহা ক্রসিংয়ে পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনে যান। এ সময় সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রথমে স্টেশনে পাওয়া যায়নি। পরে রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের বলেন, “বসেন, চা খান, আমি আসতেছি।” পরে রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি স্টেশনে আসেন।

এ সময় গাড়িটি কেন টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে সংবাদকর্মীরা মামলার সময় ও কাগজ দেখতে চাইলে দেখা যায়, রাত ৯টা ১ মিনিটে ওই সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে ২ হাজার ৫০০ টাকার মামলা করা হয়েছে। মামলার কেস স্লিপ নম্বর 9810213438।

অর্থাৎ গাড়িটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আটক করার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর এবং সংবাদকর্মীরা পুলিশ স্টেশনে অবস্থান করার সময়ই মামলাটি করা হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখা যায়।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাড়িটি আটক করার পর যদি আইন অনুযায়ী মামলা করার মতো কোনো অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তখনই মামলা না করে কেন টাকা নিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হলো? আবার কয়েক ঘণ্টা পর সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির সময় একই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার কারণই বা কী? গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পর সেটি আটক না থাকা অবস্থায় কীভাবে মামলা করা হলো-এ প্রশ্নও উঠেছে।

এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে এসব বিষয়ে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। পরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হলে ওসি সাহেবের কাছ থেকে নিতে হবে।

পরে ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি তখনই অবগত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লায় একটি কনফারেন্সে রয়েছেন এবং বর্তমানে দায়িত্বে নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে তিনিই দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা এক ব্যক্তি পরে সিএনজি চালক হাসানকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। হাসানের দাবি, ওই ব্যক্তি তাকে “এই রোডে কিভাবে গাড়ি চালাও দেখব” বলে হুমকি দেন। একই সঙ্গে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকার মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

টাকা দেওয়ার অভিযোগ করার পর চালককে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে তার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং চালকের সঙ্গে কথা বলে হুমকির বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।

এ ছাড়া কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যানবাহন থামিয়ে মামলা করার ভয় দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় এবং পরে গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের এএসপি শাহ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “গতকাল সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভারের সঙ্গে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা সত্যিই দুঃখজনক।”

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি যাচাই করে দেখব। যদি তা সত্য হয়, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের এসপি মো. শাহিনুর আলম খান বলেন, “আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকে শুনেছি। তারপরও আমি ওই সিএনজি অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা বলতে চাই।” তিনি প্রতিবেদককে চালকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ঘটনাটি ঘিরে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে-২ হাজার টাকা কার মাধ্যমে এবং কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছিল? টাকা নেওয়ার পর গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হলে কয়েক ঘণ্টা পর একই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হলো কেন? বিকেল সাড়ে ৫টায় গাড়ি আটকের পর রাত ৯টা ১ মিনিটে মামলা করার কারণ কী? গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পর সেটি আটক না থাকা অবস্থায় কীভাবে মামলা করা হলো? সংবাদকর্মীরা পুলিশ স্টেশনে অবস্থান করার সময়ই কেন মামলাটি করা হলো? টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আর অভিযোগ করার পর চালককে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকার মামলা দেওয়ার হুমকির অভিযোগেরও কি তদন্ত হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট হয়নি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে এলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *