চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মইজ্যারটেক চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, অভিযানে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্যারটেক মোড়ে স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃতপক্ষে আটক দম্পতির কাছ থেকে ১২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হলেও জব্দ তালিকায় ৫ হাজার ৮০০টি দেখানো হয়েছে। বাকি ৬ হাজার ২০০ ইয়াবা বড়ি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্ণফুলী থানার এসআই ইমরান ফয়সালের বিরুদ্ধে।
অভিযানে এসআই (নিরস্ত্র) ইমরান ফয়সাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মইজ্যারটেক চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাসিন্দা রমজান আলী (৩৫) ও তার স্ত্রী দিলোয়ারা বেগমকে (২৩) আটক করেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ) ধারায় কর্ণফুলী থানায় মামলা (নং-০৭, তারিখ ৯ জুলাই ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে অভিযানের পরপরই ভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রমজান আলী ও দিলোয়ারা বেগমের কাছ থেকে মোট ১২ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু জব্দ তালিকায় মাত্র ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবা দেখিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবশিষ্ট ৬ হাজার ২০০ ইয়াবা বড়ি আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে জব্দ তালিকা, আলামত সংরক্ষণ এবং অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এসআই ইমরান ফয়সালের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ওসি মো.ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, আমরা যা পেয়েছি তা দিয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে মামলা দেয়া হয়েছে।