কর্ণফুলীতে পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা
‘ডেভিল হান্টে’ যুবলীগ নেতা আটক: অর্থ লেনদেন ও মামলা লঘুর অভিযোগ
সচেতন মহলের দাবি, আসামীকে কেন লঘু ধারায় মামলা দেওয়া হলো, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে এক যুবলীগ কর্মীকে আটকের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া ও মামলা লঘু করা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। আটক যুবলীগ কর্মীকে একটি সাধারণ জামিনযোগ্য মামলায় আদালতে চালান দেওয়া এবং পরবর্তীতে তার দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর অংশ হিসেবে কর্ণফুলী থানা পুলিশ উপজেলার শিকলবাহা ফকিরা মসজিদ এলাকা থেকে মো. ছাবের (৩৭) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে আটক করে। আটকের পর তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে শুরুতে ভয়ংকর অপরাধী বা ‘ডেভিল’ হিসেবে সাংবাদিকদের কাছে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে পুলিশের করা অভিযোগ লঘু করে একটি নিয়মিত জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ছাবেরকে আটকের পর কর্ণফুলী উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতাকর্মীরা তাকে নিজেদের লোক দাবি করে রাতেই থানায় অবস্থান নেন। তারা আধা ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে ছেড়ে না দিলে থানা ঘেরাও ও মানববন্ধন করার হুমকি দেন। অভিযোগ উঠেছে, এনসিপি নেতাদের চাপ এবং পর্দার আড়ালে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে পুলিশ কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে এবং দুর্বল ধারায় মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠায়। আদালত থেকে তিনি দ্রুত জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগের বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, “তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের তথ্য সঠিক নয়।” তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি বিশেষ অভিযানের আসামীকে কেন লঘু ধারায় মামলা দেওয়া হলো, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে।