রাঙামাটি ব্যুরো : রাঙামাটিতে বিক্রির জন্য আনা ৭ বছরের এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করে সরকারি আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। সোমবার (১১ আগস্ট) জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিশুটিকে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ভেদভেদী এলাকার সরকারি শিশু পরিবারে পাঠানো হয়। সেখানেই তার পড়াশোনা ও যত্নের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারে এক নারী নিজের মেয়েকে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনেন। এক ব্যক্তি ২০ হাজার টাকায় শিশুটিকে নিতে চাইলে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দেন। পরে ওই নারী ও শিশুটিকে স্থানীয় লোকজন নিরাপদে রাখেন এবং স্বজনদের খবর দেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির মা–বাবার মধ্যে কলহ চলছিল। প্রায়ই মা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন। একসময় অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা হয়ে যান এবং মা–মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কয়েক বছর ধরে তারা দেবাশীষনগর এলাকায় বসবাস করছিলেন।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন আয়-রোজগার না থাকায় এবং অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় শিশুটিকে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শিশুটির এক আত্মীয় এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ওই নারী কাজের খোঁজে বাজারে গিয়েছিলেন, বিক্রির জন্য নয়।
ঘটনার পর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে শিশুটিকে সরকারি আশ্রয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সোমবার দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে স্বজন ও জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তাকে শিশু পরিবারে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “আমরা খবর পাই বাজারে একটি শিশু বিক্রির চেষ্টা চলছে। পরে জেলা পরিষদের সহায়তায় শিশুটিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে শিশু পরিবারে ভর্তি করানো হবে।”
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, “শিশুটিকে সম্পূর্ণ দায়িত্বে নেওয়া হয়েছে—খাওয়া, থাকা ও পড়াশোনা সবকিছুর ব্যবস্থাই করা হবে। শিশুটির অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”