THE B NEWS 24

সন্ধ্যা ৬:১৩ - শনিবার - ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
সন্ধ্যা ৬:১৩ - শনিবার - ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রাম সর্বশেষ

আলামত রক্ষকই যদি হন ভক্ষক! কর্ণফুলী থানায় জব্দ ইয়াবা বদলে বিক্রির অভিযোগ, ১২ হাজার ইয়াবা আত্মসাতের দাবি

মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা ইয়াবা যদি পুলিশের মালখানায় ঢোকার পরই ‘উধাও’ হয়ে যায়, আর তার জায়গায় আদালতে পাঠানো হয় নষ্ট কিংবা ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট-তাহলে প্রশ্ন শুধু একটি থানার মালখানা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নয়; প্রশ্ন ওঠে পুরো মাদক মামলার আলামত সংরক্ষণ ও বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার ডাঙারচর পুলিশ ফাঁড়ি ও থানার মালখানা ঘিরে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডাঙারচর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই চায়ন কুমার দাস এবং থানার মালখানা কর্মকর্তা এসআই মাহিন ছারোয়ার।

অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের যোগসাজশে বিভিন্ন মাদক মামলায় জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি অংশ পরিবর্তন করে তা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে অপেক্ষাকৃত নষ্ট বা নিম্নমানের ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট আলামত হিসেবে আদালতে পাঠিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ-একটি মামলায় ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবার আলামত পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ১৬ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে অপেক্ষাকৃত নষ্ট ও ইয়াবা সাদৃশ্য ট্যাবলেট কম দামে ক্রয় করে কোটে ধ্বংসের জন্য প্রেরণ করেন।

মামলা হওয়ার পরই ‘বদল’!

অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদক মামলা রুজু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ইয়াবা আলাদা করে রাখা হয়। এরপর অবশিষ্ট আলামত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রকৃত ইয়াবার পরিবর্তে নষ্ট বা নিম্নমানের ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট আলামত হিসেবে প্রস্তুত করে তা আদালতে পাঠানো হয়।

এ ক্ষেত্রে কর্ণফুলী থানার মামলা নম্বর-০৭, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ) ধারায় দায়ের করা এ মামলায় ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা আলামত পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।

‘আলামত’ থেকে মাদকবাজারে?

অভিযোগকারীদের দাবি, পরিবর্তন করা প্রকৃত ইয়াবা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ কাজে পুলিশের কথিত সোর্স ও কয়েকজন সদস্যের নামও উঠে এসেছে।

অভিযোগে চেকার হারুন, কনস্টেবল মাসুদ, বাকলিয়া কালামিয়া বাজার এলাকার মামু, ইসহাক, সোহেল, সেলিম, আনোয়ারার রফিক ওরফে ‘সোনা রফিক’সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

কলেজ বাজারের ‘সোর্স’ বাবুল

অভিযোগে কর্ণফুলী কলেজ বাজার এলাকার পুলিশের কথিত সোর্স বাবুলের নামও এসেছে। তার কাছে জব্দ করা ইয়াবা বিক্রি করে দেওয়া এবং তার পরিবর্তে নষ্ট ইয়াবা আলামত হিসেবে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

টাকা ভাগাভাগি নিয়েও বিরোধ?

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আলামত বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে ড্রাইভার কনস্টেবল নূর মোহাম্মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে এবং বিরোধ এখনো চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মইজ্জারটেক চেকপোস্টে ১২ হাজার ইয়াবা?

এসআই চায়ন কুমার দাসকে ঘিরে দ্বিতীয় আরেকটি বিস্ফোরক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ আগস্ট ২০২৬ রাতে মইজ্জারটেক চেকপোস্টে ডিউটিরত অবস্থায় ১২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে তার সঙ্গে থাকা ফোর্স ও চেকার হারুনের সহায়তায় ওই ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যা বিক্রি করা হয়েছে ১২ লাখ টাকায়।

প্রতি শনিবার ‘ধ্বংস’-কিন্তু কী ধ্বংস হচ্ছে?

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো-আলামত পরিবর্তনের পর সেগুলো আদালতের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জি আর শাখার এএসআই শাহাদাতকে অর্থ দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে প্রতি শনিবার ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এসব আলামত ধ্বংস করা হয়।

চায়ন কুমারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও

এসআই চায়ন কুমার দাসের বিরুদ্ধে মাদক আলামত সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি দায়িত্বাধীন এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

‘সিন্ডিকেট’ নাকি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ?

সব অভিযোগ মিলিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-এগুলো কি বিচ্ছিন্ন কিছু অনিয়ম, নাকি পুলিশের হেফাজতে থাকা মাদক আলামতকে ঘিরে একটি সংগঠিত চক্র কাজ করছে?

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *