THE B NEWS 24

বিকাল ৪:৩৪ - সোমবার - ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
বিকাল ৪:৩৪ - সোমবার - ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
রাজনীতি সর্বশেষ

‘ক্যাঙারু কোর্ট’ আর নয়, সময় নিয়ে ন্যায়বিচার হবে — শফিকুল আলম

আশুলিয়ার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে গুলি চালিয়ে ছাত্র–জনতাকে হত্যায় জড়িত প্রতিটি খুনির বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে করা হবে। যেন কেউ বলতে না পারে, নিয়ম ভেঙে অবিচার হয়েছে।

তিনি বলেন, “অতীতে ‘ক্যাঙারু কোর্ট’ বসিয়ে বহু মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই না বাংলাদেশে এমন কিছু হোক। এজন্য বিদেশি কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সময় লাগছে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। প্রত্যেক খুনির বিচার হবে, কেউ বাদ যাবে না—এটাই শহীদদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।”

শফিকুল আলম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে চারটি বড় মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তদন্ত চলছে ২৭টি মামলায়, আর ১৮টির চার্জশিট জমা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “তাড়াহুড়ো করে অবিচার করলে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা হবে—যেন আমরা রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছি। আমরা চাই, বিশ্ব দেখুক—এখানে ন্যায়ের বিচার হচ্ছে।”

শেখ পরিবারের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়াই জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা শেখ পরিবারের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়েছি। শহীদরা মানুষের অধিকার ও ভোটের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন। আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর।”

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি আবু সাদেক কায়েম বলেন, এক বছর পরও বিপ্লবের প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। শহীদ পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত হয়নি, পুনর্বাসন ও যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। আহত ও পঙ্গুদের চিকিৎসা–পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি “খুনি হাসিনার সহযোগীদের”ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বোর্ড সদস্য মো. মতিউর রহমান আকন্দ।

জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী—ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শাকিল হোসেন পারভেজ ও ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আহনাফ আবির আশরাফুল্লাহ—কে স্মরণে চত্বর ও লাইব্রেরি উদ্বোধন করা হয়। শাকিলের বাবা বেলায়েত হোসেন চত্বরের উদ্বোধন করেন, আর আহনাফের মা আসিয়া খাতুন উদ্বোধন করেন লাইব্রেরি।

দুপুরে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্মরণসভা সম্পন্ন হয়। পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদদের কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কোরআন বিতরণ, নারীদের অবদান বিষয়ক সেমিনার, পোস্টার ও রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, রক্তদান এবং ইন্ডোর গেমস প্রতিযোগিতা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *