আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন—এ প্রশ্নে সিদ্ধান্তহীন মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় অর্ধেকে পৌঁছেছে। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) সর্বশেষ ‘পালস সার্ভে–৩’ অনুযায়ী, ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোটার এখনো তাদের ভোটের সিদ্ধান্ত নেননি। গত বছরের অক্টোবরে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় আর্কাইভস মিলনায়তনে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বিআইজিডি ও সংস্কারবিষয়ক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’। জরিপটি গত ১ থেকে ২০ জুলাই দেশের ৫ হাজার ৪৮৯ জন নাগরিকের ওপর পরিচালিত হয়; এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ পুরুষ, ৪৭ শতাংশ নারী, ৭৩ শতাংশ গ্রামের এবং ২৭ শতাংশ শহরের বাসিন্দা।
রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তায় পরিবর্তন
জরিপে দেখা যায়, কাকে ভোট দেবেন তা বলতে চান না ১৪ দশমিক ৪০ শতাংশ ভোটার এবং ভোট দেবেন না বলেছেন ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। সরাসরি সমর্থনকারী ভোটারের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ১২ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত অক্টোবরে বিএনপি ছিল ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, জামায়াত ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং এনসিপি ২ শতাংশ— অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন কিছুটা কমেছে, আর এনসিপির সমর্থন সামান্য বেড়েছে।
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমর্থন গত অক্টোবরে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে এখন ৭ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমেছে। জাতীয় পার্টির ভোট ০.৭০ শতাংশ থেকে ০.৩০ শতাংশে, এবং অন্যান্য ইসলামি দলের সমর্থন ২ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে নেমে ০.৭০ শতাংশে এসেছে।
আপনার এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিতবে—এমন প্রশ্নে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি, ১৩ শতাংশ জামায়াত, ১ শতাংশ এনসিপি এবং ৭ শতাংশ আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ হ্রাস
দেশ রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে মনে করেন ৪২ শতাংশ, যা গত অক্টোবরে ছিল ৫৬ শতাংশ। অর্থনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে মনে করেন ৪৫ শতাংশ (গত অক্টোবরে ছিল ৪৩ শতাংশ)। অর্থাৎ অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ সামান্য বেড়েছে, তবে রাজনীতি নিয়ে আশাবাদ কমেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নে উত্তরদাতারা গড়ে ৬৩ শতাংশ নম্বর দিয়েছেন, যা গত অক্টোবরে ছিল ৬৮ শতাংশ।
সংস্কার ও নির্বাচন বিষয়ে মতামত
ভালোভাবে সংস্কার শেষে নির্বাচন চান ৫১ শতাংশ, কিছু জরুরি সংস্কার শেষে চান ১৭ শতাংশ, আর কোনো সংস্কার ছাড়াই নির্বাচন চান ১৪ শতাংশ। ১৩ শতাংশ জানান, সংস্কার বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।
প্রয়োজনীয় সংস্কারের তালিকায় আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন বলেছেন ৩০ শতাংশ, বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ১৬ শতাংশ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ১১ শতাংশ, অর্থনীতি ও ব্যবসা চাঙা করা ১৬ শতাংশ, নিত্যপণ্যের দাম কমানো ১৩ শতাংশ, বেকারত্ব কমানো ১০ শতাংশ, দুর্নীতি দমন ১৭ শতাংশ, রাজনৈতিক অস্থিরতা হ্রাস ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার প্রত্যেকে ১৯ শতাংশ করে উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচনের সময়সূচি ও সুষ্ঠুতা
৩২ শতাংশ ভোটার চান আগামী ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় নির্বাচন হোক, ১২ শতাংশ চান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে, ১১ শতাংশ চান জুনের মধ্যে এবং ২৫ শতাংশ চান ডিসেম্বর ২০২৬ বা পরে।
৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে; ১৫ শতাংশ এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন, আর ১৪ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।
অনুষ্ঠানে জরিপের ফল উপস্থাপন করেন বিআইজিডির ফেলো অব প্র্যাকটিস সৈয়দা সেলিনা আজিজ। আলোচনায় অংশ নেন বিআইজিডির জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো মির্জা এম হাসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান। সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক এ কে এম ফাহিম মাশরুর।