THE B NEWS 24

রাত ৯:২৬ - বৃহস্পতিবার - ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
রাত ৯:২৬ - বৃহস্পতিবার - ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রাম সর্বশেষ

ডাঙ্গারচর পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে ‘মাসোহারা’ বাণিজ্যের অভিযোগ মাসোহারা না দিলে সাম্পান-কার্গো জব্দের দাবি

কর্ণফুলী থানার ডাঙ্গারচর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) চয়ন কুমার দাশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি চালানোর অভিযোগ তুলেছেন তেল ব্যবসায়ী, কার্গো অপারেটর ও নদীপথে পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ী। তারা বলছে, মাসিক নির্ধারিত অঙ্কের চাঁদা ছাড়াও নদীতে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তেলবাহী সাম্পান কিংবা কার্গো জাহাজ আটকে রেখে হয়রানি করা হয়।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগপত্রে ডাঙ্গারচর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই চয়ন কুমার দাশের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি তার অধীনস্থ এক কনস্টেবলের মাধ্যমে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন। ডাঙ্গারচর, গ্রামকুল ও বাংলাবাজার ঘাট এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু মাসিক চাঁদাই নয়, অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কর্ণফুলী নদীতে চলাচলকারী তেলবাহী সাম্পানে পুলিশ বোট নিয়ে উঠে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কোনো ব্যবসায়ী টাকা দিতে রাজি না হলে সাম্পানসহ তেল পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের পর তা ছাড়িয়ে নিতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, কর্ণফুলী নদীর আউটার এলাকায় বড় মাদার ভেসেল থেকে কার্গো জাহাজে পণ্য খালাসের সময় ভাউচারের সঙ্গে পণ্যের অমিল, অতিরিক্ত মালামাল কিংবা চোরাই পণ্যের অভিযোগ তুলে প্রতি ট্রিপে দুই হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। টাকা না দিলে কার্গো জাহাজ আটকে রেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্রে ডাঙ্গারচর ও গ্রামকুল এলাকার অন্তত ১১ জন এবং বাংলাবাজার ঘাটের ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিপিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসে ১৪ হাজার টাকা, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে এর আগেও সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা এবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগে আরও বলেছেন, নিয়মিত চাঁদাবাজি ও হয়রানির কারণে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে অনেককে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঙ্গারচর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই চয়ন কুমার দাশ বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *