THE B NEWS 24

ভোর ৫:০৬ - বৃহস্পতিবার - ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
ভোর ৫:০৬ - বৃহস্পতিবার - ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রাম সর্বশেষ

কর্ণফুলীতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা মইজ্জারটেক। দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াতের প্রধান এই সংযোগস্থলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত যানজট সমস্যা নিরসনে বর্তমানে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে কর্ণফুলী ট্রাফিক পুলিশ। বিশেষ করে, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু সাঈদ বাকারের নিরলস তৎপরতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সড়কে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর হয়ে ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তি।

মাঠপর্যায়ে সরাসরি নেতৃত্ব ও তদারকি

সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে টিআই আবু সাঈদ বাকার কেবল দাপ্তরিক নির্দেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি প্রতিদিন সরেজমিনে সড়কে উপস্থিত থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি নিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন, যা মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করছে। তাঁর এই ব্যক্তিগত তদারকির ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক অভাবনীয় ও দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।

শৃঙ্খলা ফেরাতে গৃহীত পদক্ষেপ

জানা গেছে, পূর্বে মইজ্জারটেক এলাকায় সিএনজি ও অটোরিকশাগুলো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় প্রধান সড়কগুলো কার্যত স্ট্যান্ডে পরিণত হতো, যা ছিল যানজটের মূল কারণ। টিআই বাকার দায়িত্ব গ্রহণের পর টিনের ঘেরা স্থাপন করে এসব যানবাহনকে গ্রামের শাখা সড়কে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। ফলে প্রধান সড়কগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রশস্ত ও যানজটমুক্ত।

টিআই আবু সাঈদ বাকারের বক্তব্য

সফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলীর টিআই আবু সাঈদ বাকার বলেন, “মইজ্জারটেক ও আশপাশের ক্রসিং সড়কগুলো যানজটমুক্ত করা আমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পূর্বে সিএনজি ও অটোরিকশাগুলোর যত্রতত্র অবস্থানের কারণে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হতো। বর্তমানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা প্রধান সড়কগুলো সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। এর ফলে শহর ও গ্রামের মানুষ এখন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।”

সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকট

তবে সাফল্যের পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, কর্ণফুলীর মতো বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য নেই। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব থাকায় মাঝে মাঝে দায়িত্ব পালনে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জনস্বার্থে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিমত ও স্বস্তি

মইজ্জারটেক পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ট্রাফিক পুলিশের বর্তমান তৎপরতায় তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তাঁদের মতে, আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হতো, এখন সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটেই মোড় পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে। পুলিশের এই জনবান্ধব ও কর্মঠ ভূমিকা কর্ণফুলীর সাধারণ মানুষের কাছে এখন ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *