জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং এ আদেশের ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে চতুর্থ ধাপের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীসহ আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলসমূহ।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জনগণের ন্যায্য দাবিসমূহ বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় গণআন্দোলনের বিকল্প নেই। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করতে হবে। এর আলোকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা রক্ষায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি জরুরি।
এছাড়া, ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি চালু, কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ, ভোটকেন্দ্র দখল ও অনিয়ম প্রতিরোধের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, গবেষকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি সমর্থন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ৫ দফা দাবি হলো—
১। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যে তার ওপর গণভোট আয়োজন।
২। আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু।
৩। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ।
৪। ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার কার্যকর করা।
৫। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
চলমান আন্দোলনের চতুর্থ ধাপের কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়—
* ২০ অক্টোবর ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল
* ২৫ অক্টোবর বিভাগীয় শহরগুলোতে বিক্ষোভ
* ২৭ অক্টোবর জেলা শহরগুলোতে বিক্ষোভ
হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, ২৭ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মানা না হলে দেশব্যাপী আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাইম প্রমুখ।